গাইবান্ধা প্রতিনিধি: মোঃ মাহমুদুল হাবিব রিপন,

ভূয়া আইডি কাডের ফটোকপি দিয়ে ইন্স্যুরেন্স না করায় ও চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ার কারণে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ফেসবুকে ইন্স্যুরেন্সের কর্মীদের ছবি ভাইরাল করা হয়েছে। শনিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান গোবিন্দগঞ্জের বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি: (নিবন্ধন নং লাইফ ০৬/২০১৩ ও সনদ নং সি-১১০৮৩৭/১৩ ) এর সহকারি ডাইরেক্টর এ.কে.এম শহীদুজ্জামান।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স গোবিন্দগঞ্জে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত আর্থিক মন্ত্রণালয় ও আইডিআরএ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক পরিচালিত হয়ে আসছে।
গত ৪ মাস ধরে কিস্তির টাকা পূর্বালী ব্যাংক লি: গোবিন্দগঞ্জ শাখায় ব্যাংক মাধ্যমে জমা করে আসছে। গত ১ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের হীরক মোড় শাখায় নতুন অফিসে স্থানান্তর করে। কিন্তু গত ৪ নভেম্বর দুপুর সোয়া ২টায় তিনি বৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়ে অফিস কক্ষে বীমা সংক্রান্ত সভা করছিল। হঠাৎ করে দু’জন লোক এসে তাদের পরিচয় গোপন রেখে এক মহিলা কর্মীকে ডিপিএস করার কথা বলে।
এসময় তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি চাইলে তারা পারুল বেগম ও খোকন আকন্দ নামে দুটি আইডি কাডের ফটোকপি দেয়। আইডি কাডের ফটোকপি দুটি নকল সন্দেহ হওয়ায় এই কাগজপত্র দিয়ে ডিপিএস করা যাবে না বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসের ৪ নারী কর্মীদের উল্টাপাল্টা ছবি তুলতে থাকে। এসময় তাদের পরিচয় জানতে চাইলে শাহীন আলম ও মো. খোকন আকন্দ নামে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ের ভূয়া আইডি কার্ড দেখিয়ে এক লক্ষ টাকা চাঁদা করে। উক্ত টাকা না দিলে গোবিন্দগঞ্জে বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স চালাতে পারবে না বলে হুমকি প্রদান করে।
শুধু তাইনয়, এসময় নারী কর্মচারীদের অশ্লীল কথাবার্তা ও চর থাপ্পর মেরে নানা কথার মাধ্যমে নিপীড়ন করে। তখন উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে তাদেরকে তালাবদ্ধ করে আটকে রেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইলে ধারণকৃত নারী কর্মীদের ভিডিও অসামাজিক কাজে লিপ্ত আছে বলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ভাইরাল করে। একপর্যায়ে তারা ফোন করে এটিএম সাজ্জাদ হোসেন সাবু নামে এক সাংবাদিককে ডেকে আনে। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে ৪ নারী কর্মীসহ তাকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়।
পরে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচাজ জনসম্মুখে প্রায় ১শ লোকের উপস্থিতিতে নারী কর্মীরা অসামাজিক কাজে লিপ্ত আছে এরকম কোনো প্রমাণাদি বা ত্রæটি না পাওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়। তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠান, চারজন নারীকর্মী ও তার ব্যক্তি সম্মানহানী হওয়ায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদেরকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইন্সুরেন্সের ফিনান্সিয়াল এসোসিয়েট মোছা. পিংকি আকতার (কোড নং ১০১০৫৭৪), সুমি আকতার (১০১১২৩০), নাজনিন আকতার (১০১১৩৬১) ও আলো আকতার (১০০৬৯৯৯)।
