দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মাকে হারালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তারেক রহমান লেখেন,
“আমার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”
তিনি বলেন, “অনেকের কাছে তিনি ছিলেন দেশনেত্রী, আপসহীন নেত্রী; অনেকের কাছে গণতন্ত্রের মা, বাংলাদেশের মা। আজ দেশ গভীরভাবে শোকাহত এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়ে, যিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় অনিঃশেষ ভূমিকা রেখেছেন।”
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পেছনে দায়ী : আইন উপদেষ্টা
মায়ের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান লেখেন, “আমার কাছে খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মমতাময়ী মা, যিনি নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য। তিনি আজীবন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ত্যাগ ও সংগ্রামে ভাস্বর হয়েও তিনি ছিলেন পরিবারের প্রকৃত অভিভাবক। অসীম ভালোবাসা দিয়ে আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়েও শক্তি ও প্রেরণা যুগিয়েছেন। গ্রেফতার, চিকিৎসা বঞ্চনা ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি অদম্য সাহস ও দেশপ্রেমে অবিচল ছিলেন।”
তারেক রহমান বলেন, “দেশের জন্য তিনি হারিয়েছেন স্বামী, হারিয়েছেন সন্তান। তাই এই দেশ ও দেশের মানুষই ছিল তাঁর পরিবার, তাঁর সত্তা ও অস্তিত্ব। জনসেবা, ত্যাগ ও সংগ্রামের যে ইতিহাস তিনি রেখে গেছেন, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের শোক
শেষে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “আপনারা সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। তাঁর প্রতি দেশবাসীর ভালোবাসা ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধায় আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার, কিডনি, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছিলেন। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন
