মোঃ মাহমুদুল হাবিব রিপন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারে বাধা প্রদান ও পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ২ নং কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা বাজার এলাকায় গাইবান্ধা জেলা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২ নং কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মোঃ জোবায়ের হাসান গোলাপ-কে তার বসতবাড়ি থেকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়।
এ সময় চেয়ারম্যানের স্ত্রী সাদিয়া জান্নাত জুতি বাড়ি থেকে বের হয়ে হৈচৈ শুরু করলে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত লাঠি ও গাছের শক্ত ডাল নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং গ্রেফতারে বাধা প্রদান করে। হামলার সুযোগে চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান গোলাপ কৌশলে পালিয়ে যায়।
হামলায় এসআই শিবলী কায়েস মীর ও এসআই সেলিম রেজা আহত হন। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে থাকা একটি হোন্ডা ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল ও একটি পালসার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
আরও পড়ুন: নড়াইল-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত
খবর পেয়ে সি সার্কেল (পলাশবাড়ী-গোবিন্দগঞ্জ) এর সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রশিদুল বারী সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ঘটনায় এসআই আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২৭, তারিখ ২৬/০১/২০২৬ ইং। মামলায় ১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৪২৭/৩৪ পেনাল কোডে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা রুজুর পরপরই গাইবান্ধা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার রশিদুল বারী এর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন,
সৈয়দ সোহাগের ছেলে সামিউল (২০), আসাদুল্লাহর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪০), মৃত আজহার আলীর ছেলে তাজুল ইসলাম (৩৫)
ও আলতাফ মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (৪০), আলাউদ্দিনের ছেলে নুরুজ্জামান (৩৫), মানিক মিয়া (২০)।
এ এদের সকলের বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ২ নং কাটাবাড়ি ইউনিয়ন,কাটা বাড়ি গ্রামে।তারা সকলেই আওয়ামী লীগে নেতা ছিলেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
